সারাদেশ

রাজশাহী লকডাউন, কঠোর অবস্থানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

এখনই সময় :

লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে রাজশাহী শহরসহ গোটা জেলাকেই। আজ সোমবার দুপুরে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে করোনা পরিস্থিতি নিয়ে সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ফলে একেবারে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া শহরের বাইরে থেকে কোনো যানবাহন ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না শহরে। আবার শহর থেকেও বের হতে দেওয়া হচ্ছে না।

সেনাবাহিনী ও পুলিশ কড়া সতর্ক অবস্থান নিয়েছে যানবাহন চলাচলের ক্ষেত্রে। সামাজিক নিরাপত্তা দূরুত্বের কথা মাথায় রেখে শহরে বাইরের কোনো যানবাহন ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না সোমবার সকাল থেকেই। আবার সন্ধ্যা ছয়টার পর থেকে সকল ধরনের যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এমনকি দোকানপাটও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। একমাত্র ওষুধের দোকান ছাড়া কোনো দোকানপাট খুলে রাখা যাবে না বলেও মাইকিং করে দেওয়া হয়েছে পুলিশের পক্ষ থেকে।

বিভাগীয় কমিশনার হুমায়ুন কবির খন্দকারের সভাপতিত্বে ওই সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন, সদর আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা, জেলা প্রশাসন হামিদুল হকসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র গোলাম রুহুল কুদ্দুস বলেন, ‘শহরে যেন কেউ বাইরে থেকে প্রবেশ করতে না পারে বা বের হতে না পারে সেই পরিবেশ তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। করোনা ছড়িয়ে পড়া রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এখন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। কাউকেউ সন্ধ্যা ছয়টার পরে বাড়ির বাইরে থাকতে দেওয়া হবে না। শুধুমাত্র ওষুধের দোকান খোলা থাকবে।’

এদিকে রাজশাহীর অদূরে বেলপুকুর ও কাটাখালিতে বসানো হয়েছে দুটি চেকপোস্ট। অন্যদিকে নওদাপাড়া ও কাশিয়াডাঙ্গাতেও বসানো হয়েছে চেকপোস্ট।

অন্যদিকে রাজশাহী আইডি হাসপাতলে আরো একজনকে আইসোলেশন রাখা হয়েছে। নাটোরের বাগাতিপাড়া থেকে আশা ১৮ বছরের ওই কিশোরকে স্থানীয় সিভিল সার্জন প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসহ করোনা পরীক্ষার জন্য রামেক হাসপাতালে পাঠিয়েছেন। আর করোনা রিপোর্ট নেগেটিভ আশায় খ্রিস্টান মিশন হাসপাতালের নার্সকে আইসোলেশন ওয়ার্ড থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

সোমবার রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আয়োজিত নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন করোনা চিকিৎসা টিমের আহ্বায়ক ডা. আজিজুল হক আজাদ।

তিনি আরো জানান, রামেক হাসপাতালের অবজারভেশন ওয়ার্ডে ৫ জন রোগীকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। তাদের মধ্যে তিনজনের অবস্থার উন্নতি হওয়ায় আজ সোমবার ছেড়ে দেওয়া হবে। আশা করা হচ্ছে বাকি দুজনকে আগামীকাল মঙ্গলবার ছেড়ে দেয়া হবে।

এদিকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজের করোনা পরীক্ষাগারে ৩১টি নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ল্যবটিন প্রধান ডা. সাবেরা গুলনেহার। রাজশাহী বিভাগের ৩১টি নমুনার মধ্যে আছে রাজশাহী জেলার ৬টি, বগুড়ার ৬টি, নবাবগঞ্জের ১০টি, নাটোরের ৮টি ও নওগাঁর ১টি। এদিকে ১ এপ্রিল চালুর পর মোট ৯৮টি নমুনা পরীক্ষা করা হলো ল্যাবটিতে।

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button
Close