বিনোদন

যৌনকর্মীরা কীভাবে মোমবাতি জ্বালবে: মোদিকে প্রশ্ন স্বস্তিকার

এখনই সময় :

ভারতজুড়ে চলা লকডাউনে নতুন কর্মসূচি দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। করোনা ভাইরাসের অন্ধকার থেকে দেশকে আলোর পথে নিতে রবিবার রাতে আলো নিভিয়ে মোমবাতি জ্বালানোর ডাক দিয়েছেন তিনি। অভিযোগ উঠেছে, করোনা নিয়ে মোদির কয়েকবারের বক্তব্যে ১৩০ কোটি দেশবাসীর কথা উল্লেখ থাকলেও রয়ে গেছে পক্ষপাতিত্ব। যারা গরিব বা দিন আনে দিন খায় তাদের কীভাবে চলবে সে বিষয়ে ভুল করেও আলোকপাত করেননি তিনি।যাদের টাকা, খাবার বা দরকারি পানিটুকু পর্যন্ত নেই তারা কীভাবে মোমবাতি বা মোবাইলের আলো জ্বালবেন সে প্রসঙ্গ তোলেননি মোদি।

প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যে হতবাক ও ক্ষুব্ধ পশ্চিমবঙ্গের অভিনেত্রী স্বস্তিকা মুখার্জি। তিনি টুইটারে লেখেন, ‘দেশবাসীকে একত্রিত হয়ে করোনামুক্ত ভারত গড়ার ডাক দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু যাদের বাঁচবার সামান্য রসদটুকুও নেই তারা কী করেই বা মোবাইলের আলো জ্বালবে? মোমবাতি জ্বালবে। ও.. যৌনকর্মীদের বেঁচে থাকার জন্য শুধু সেক্সটাই তো প্রয়োজন।’

সঙ্গে টুইটারে পতিতালয়ের একটি বাস্তব দৃশ্য তুলে ধরেছেন স্বস্তিকা। যেখানে দেখা যাচ্ছে, যৌনকর্মীদের বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। লকডাউনে সন্তান-সন্ততি নিয়ে তাদের ভরসা বলতে শুধু ১০০ ফুট একটি জায়গা। যেখানে শুধুমাত্র একটি বেঞ্চ রয়েছে। ওটাতেই দিন-রাত পালা করে বাচ্চাদের নিয়ে ঘুমাচ্ছেন তাঁরা। যদিও ছবিটি ৩১ মার্চের।

এই ছবিটিকেই শুক্রবার শেয়ার করে স্বস্তিকা লিখেছেন, ‘দেশবাসীকে একজোট হয়ে করোনা মোকাবিলার ডাক দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু যাঁদের বেঁচে থাকাটাই কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে জল, খাবার, রেশন, টাকা না পেয়ে, মোমবাতি জ্বালিয়ে তাদের কাছ থেকে আমরা সংঘতি-ঐক্যবদ্ধ হওয়ার বার্তা আশা করব?’

 

পাশাপাশি প্রান্তিক ওই মানুষগুলোর পাশে দাঁড়িয়ে মোদির উদ্দেশে খানিক ব্যঙ্গাত্মক সুরেই বললেন, ‘ওহ! যৌনকর্মীদের তো বেঁচে থাকার জন্য শুধু যৌনতারই প্রয়োজন তাই না!’

প্রসঙ্গত, দুই দিন আগেই ভিন্ন রাজ্যের শ্রমিকদের নিয়ে সরব হয়েছিলেন স্বস্তিকা। তাদের উপর নির্বিচারে রাস্তায় বসিয়ে জীবাণুনাশক স্প্রে ছড়ানোয় যোগী আদিত্যনাথ সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছিলেন। দেশের দুস্থ মানুষেরা যে আরও কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন, সেই উদ্বেগও প্রকাশ করেছিলেন অভিনেত্রী। এবার যৌনকর্মীদের অভাব-অসুবিধে সমস্যা নিয়ে সরব হলেন স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়।

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button
Close